দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ২ মিনিটে কেন্দ্রটির শেষ চালু থাকা ১ নম্বর ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। কয়লার সঙ্গে বড় পাথর প্রবেশ করে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় এ বিপর্যয় ঘটে। এর আগে ২ নম্বর ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং ৩ নম্বর ইউনিটও গত বছরের নভেম্বর থেকে অচল রয়েছে।
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটটির মেরামত কাজ শুরু হয়েছে এবং ৪-৫ দিনের মধ্যে উৎপাদন পুনরায় চালুর আশা করা হচ্ছে। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটি আগামী মে মাসের মাঝামাঝি চালু হতে পারে বলেও জানান তিনি।
২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থানীয় কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্মিত হলেও নানা যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকায় কয়লা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খনির ইয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ৭২ হাজার টন কয়লা মজুদ রয়েছে, যা ধারণক্ষমতারও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে কয়লার অপচয়—এই দ্বৈত সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি।