ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার নিয়ন্ত্রণ এখন আর এককভাবে ম্যানচেস্টার সিটির হাতে নেই। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে চাপে রাখতে এবং শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের সামনে। সেই লক্ষ্য পূরণে ঘরের মাঠে ব্রেন্টফোর্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে সিটিজেনরা।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এই জয়ের ফলে চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে টানা ১৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার গৌরব বজায় রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। গত সপ্তাহে এভারটনের মাঠে ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্রয়ের পর এদিন দারুণ ছন্দেই ফিরেছে দলটি।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য সফরকারী ব্রেন্টফোর্ড কিছুটা চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিল। মাইকেল কায়োদের থ্রো-ইন থেকে সিটি বক্সে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। গোলরক্ষক দোনারুমা বল ঠেকাতে ব্যর্থ হলেও শেষ মুহূর্তে ডিফেন্ডাররা গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করেন। এরপর ম্যানসিটি নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে জেরেমি ডকুর ক্রস থেকে আর্লিং হালান্ড হেড করলেও বল গোলবারের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। হালান্ড নিজের ব্যক্তিগত ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ম্যানসিটি। ম্যাচের এক ঘণ্টার মাথায় অবশেষে ডেডলক ভাঙেন জেরেমি ডকু। বক্সের ভেতর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক কোনাকুনি শটে তিনি জাল কাঁপান। এই গোলের পর সিটিজেনদের খেলার গতি আরও বেড়ে যায়। ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি থাকতে সেমেনিয়োর কাটব্যাক থেকে চমৎকার ব্যাকহিলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্লিং হালান্ড। ফিল ফোডেনের একটি শট ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক রুখে দিলেও শেষ দিকে ওমর মারমৌশ সিটির হয়ে তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার লড়াই এখন জমে উঠেছে। ৩৬ ম্যাচ শেষে দুই দলের ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্টের। এখন সিটির প্রত্যাশা, আর্সেনাল যেন তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে হোঁচট খায়। গানারদের পরবর্তী লড়াইয়ের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে ম্যানচেস্টার সিটি।