ঈদুল আজহায় মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও কোরবানির পশুবাহী ট্রাক পারাপার নিশ্চিত করতে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ছোট-বড় ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।
এর আগে ১৯ মে বিকেল ৩টায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সার্ভিস, নৌপথে লঞ্চসহ অন্যান্য জলযানসমূহের সুষ্ঠুভাবে চলাচল নিশ্চিতকল্পে ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, যাত্রীরা যেন ঈদের আগে বাড়িতে ও ঈদের পরে কর্মস্থলে নির্বিঘ্নে ফিরতে পারেন সে লক্ষ্যে ঈদের আগে ৫দিন ও পরে ৫দিন নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে হবে, এর জন্য যাত্রী সাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। লঞ্চে লাইফ জ্যাকেট ও বয়া থাকতে হবে, লঞ্চে ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না।
দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বাসের ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে। দৌলতদিয়া ঘাটে স্ট্যান্ডবাই ৪ জন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি অবস্থান করবে। এছাড়াও ঘাটের শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। পাশাপাশি কোন অপরাধ ঘটলে ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট করবে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিন হোসেন বলেন, দৌলতদিয়াতে আমাদের ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট প্রস্তুত আছে। পাশাপাশি ৫ নম্বর ঘাটটি আমাদের পুনঃ নির্মাণ করা হয়েছে। পানি লো ওয়াটার থেকে মিড ওয়াটার লেভেলে আসলে ৫নং ঘাট ব্যবহার করা যাবে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে রো-রো, ইউটিলিটি ও কে টাইপ ফেরি সহ বহরে মোট ১৭টি ফেরি থাকবে। এছাড়াও দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর সহ মোট ৩টি ঘাট সচল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ৫নং ফেরি ঘাট বিআইডব্লিউটিএ পুনঃ নির্মাণ করেছে। এতে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি পানি বৃদ্ধি পাই তাহলে আমরা ৫নং ফেরি ঘাটটি ব্যবহার করতে পারবো বলে আশা করছি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) শামসুল হক বলেন, ঈদে ঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাদা পোশাকের পাশপাশি ডিবি পুলিশ কাজ করবে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে ট্রাফিক পুলিশ সবসময় নিয়োজিত থাকবে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, গত ঈদে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তাই এবার ফেরিতে উঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে হবে। পন্টুনের ওপর ইজিবাইক ও অটোরিকশা রাখা যাবে না। ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান থাকবে। জেলা প্রশাসন থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট করা হবে। যাত্রীদের সচেতন করতে ঘাট এলাকায় মাইকিং করা হবে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ শামসুল হক, রাজবাড়ী এনএসআই’র যুগ্ম পরিচালক এবিএম ফারুক, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, সড়ক ও জনপথের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শিশির কুমার বড়াল, বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক(বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি ত্রিনাথ সাহা, ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা, লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যকরী প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ মল্লিক, রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি খোন্দকার মাহমুদুল হক জুয়েল, রাজবাড়ী জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রমজান আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।