মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় জোরদার করা হবে: অর্থমন্ত্রী

0
1
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় জোরদার করা হবে: অর্থমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা হবে বলেও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ জন্য সকল মুদ্রায় স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের ২০২৬-২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করা হয়।

বাজেটে বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

তিনি বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে।

এর মাধ্যমে অর্থনীতিতে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, যা বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসনকে পৃথক করা হবে এবং কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বর্তমান ‘মধ্যম’ ঝুঁকির ঋণমান থেকে আবার ‘নিম্ন’ ঝুঁকির অবস্থায় ফিরে যাওয়া। এ জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার মাধ্যমে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে মধ্যমেয়াদি কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্যও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here