রাঙামাটিতে পাহাড় ধস, খোলা হয়েছে ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র

0
2
রাঙামাটিতে পাহাড় ধস, খোলা হয়েছে ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র

রাঙামাটিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ভাঙন ও পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনের সড়কে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ভেদভেদী, মুসলিম পাড়া, চেঙ্গীমুখ, পাবলিক হেল্থ এলাকায় পাহাড়ের ছোট ছোট অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আতঙ্কে আছে লোকজন।

এছাড়াও কাপ্তাই বালুচর এলাকায় সড়কে মাটি পড়ে ৩ ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ ছিল। খাগড়াছড়ির মহলছড়িতে সড়কে পানি উঠে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

জানা যায়, রাঙামাটির শিমুলতলী, রূপনগরসহ আশপাশের এলাকায় বারবার মাইকিং করে ঝুঁকিতে বসবাস করা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার আহ্বান করছে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত জেলায় ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলার ৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১০ জন আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে সদরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্র ও যুব উন্নয়ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০ জন, কাউখালিতে ৬০ ও কাপ্তাইয়ে ৭০ জন আশ্রয় নিয়েছে।

রাঙামাটিতে কতজন পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তার কোনো সঠিক তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জেলা শহরে ১৫-২০ হাজারসহ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় ঢালে, নিচে ও চূড়ায় বসবাস করছে।

বৃষ্টির কারণে রাঙামাটি সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার জানান, আমরা শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাচ্ছি। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু লোক এসেছে, তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকজনের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, আমরা দুটি টিমে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও জেলার অন্যান্য সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি। গতকাল ৪টি পয়েন্টে পাহাড়ের মাটি নেমে যানচলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। আমাদের টিম সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক রেখেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here