দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনার বক্তব্য নিয়ে যা বলল ভারত

0
27
দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনার বক্তব্য নিয়ে যা বলল ভারত

সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক বা সমর্থন নেই বলে জানিছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। আজ শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘৫ আগস্টের ওই সংবাদ সম্মেলন বা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারিমাধ্যম বা সংস্থার উদ্যোগ। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিষয়ে ওই অনুষ্ঠানে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতির আলোকে নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সব ধরনের কর্মকাণ্ড তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছে ভারত সরকার।’

জয়সওয়াল জানান, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি এবং তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এমন একটি দিন, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করাটা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার অপরাধের সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের ঘৃণ্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here