চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং সময়ের সাথে আরও তীব্র হচ্ছে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।
রবিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই হামলায় শহরের একাধিক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
সোমবার সকালে নিঝনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলিয়ায়েভ জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৩৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মেয়র আরও জানান, হামলায় এলাকার একাধিক পেট্রোলিয়াম শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতারস্তানের এসব রিফাইনারি রাশিয়ার অন্যতম আধুনিক তেল শোধনাগার হিসেবে পরিচিত। দেশটির তেল পরিশোধন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এসব স্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে রিফাইনারি এলাকা থেকে ব্যাপক ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। হামলায় একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইউক্রেনেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রোববার রাতে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চুগুইভ জেলার বুগাইভকা এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে রুশ বাহিনী।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই হামলায় ইউক্রেনের পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে জুন মাসেও ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার তাতনেফত তানেকো রিফাইনারিতে হামলা চালিয়েছিল।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, ওই রিফাইনারিতে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, ২৭ লাখ টন প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৮৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করা হয়েছিল।
এভাবে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় একের পর এক হামলার ফলে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে সাময়িকভাবে পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোও এখন দুই পক্ষের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সম্মুখসারির এলাকাতেই নয়, দুই দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও ক্রমেই বাড়ছে।