পল্লবীতে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, ল্যাংড়া রুবেলসহ গ্রেফতার ৫

0
24
পল্লবীতে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, ল্যাংড়া রুবেলসহ গ্রেফতার ৫

রাজধানীর পল্লবীতে মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী ‘ল্যাংড়া’ রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— হামিদ খান ওরফে মাখন, ‘ল্যাংড়া’ রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী।

ডিবির প্রেস ব্রিফিং
ডিবি জানায়, গত ৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় জোৎস্না নামে এক পথচারী নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

আলমগীর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জোৎস্না কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ‘ল্যাংড়া’ রুবেলকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার পর ডিবি মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে মাখন জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক ‘ল্যাংড়া’ রুবেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে কালশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ডিবি প্রধান জানান, আলমগীরও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে পল্লবীর ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী হিসেবে মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

‘ল্যাংড়া’ রুবেলের সম্পদের বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, রুবেলের নামে গাড়ি নিবন্ধিত না থাকলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গাড়িগুলো রুবেলই কিনে দিয়েছেন। হেমায়েতপুরে তার একটি বাড়ি নিয়েও তদন্ত চলছে।

ডিবির দাবি, রুবেলের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মাদক কারবার থেকেই তার আয়ের প্রধান উৎস বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তথ্য পাঠানো হবে।

গোলাগুলির সময় গাড়িতে বাপ্পাসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এ ঘটনায় হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা অন্য পরিচয়কে বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here