১০ জন নিয়ে খেলেও বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র

0
2
১০ জন নিয়ে খেলেও বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র

প্রথম নকআউট ম্যাচেই ভেঙে গেল বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের একটি বড় অংশ ১০ জন নিয়ে খেলার প্রতিকূলতা জয় করে এই অসাধারণ জয় তুলে নেয় আমেরিকানরা। বাংলাদেশ সময় আগামী ৭ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রেখে আধিপত্য বিস্তার করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধের প্রথম ২৪ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৭৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখলেও ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকরা বসনিয়ার রক্ষণভাগে শুরুতে ফাটল ধরাতে পারছিলেন না। তবে ক্রমাগত আক্রমণের ফল মেলে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে। ৪৫তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের বাড়িয়ে দেওয়া বল বসনিয়ার ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে তা পেয়ে যান ফ্লোরিয়ান বালোগান। সামনে এগিয়ে আসা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত ফিনিশিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই স্ট্রাইকার।

বিরতির পর ৫২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বসনিয়া, যখন হালকা চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তাদের শীর্ষ গোলদাতা এডিন জেকো। তবে এর কিছুক্ষণ পর ৬১ মিনিটে উল্টো বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র। বলের দখল নিতে গিয়ে বসনিয়ার মুহারেমোভিচের সাথে সংঘর্ষে জড়ান প্রথম গোলের নায়ক বালোগান। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ৬৫ মিনিটে বালোগানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরার দারুণ সুযোগ পায় বসনিয়া, কিন্তু দেমিরোভিচ ও বাজারাকতারেভিচের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ম্যাককেন্নি ও ডেস্টের দারুণ কম্বিনেশনে বল পেয়ে বসনিয়ার জালে বল পাঠান পুলিসিক। তবে উদযাপনের আগেই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় গোলটি বাতিল হয়। অবশ্য সেই হতাশা ঘুচাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র তিন মিনিট সময় লেগেছে। ৮২ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে এক অসাধারণ ফ্রি-কিকে ব্যবধান ২-০ করেন মালিক টিলম্যান। তাঁর নেওয়া নিখুঁত ও বাঁকানো শটটি বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল ডানদিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।

১০ জন নিয়েখেলার সমস্ত বাধা পেরিয়ে টিলম্যানের এই চোখধাঁধানো গোলের সাথে সাথেই পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া এবং ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের চেনা মাঠে কতদূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here