দল থেকে বহিষ্কার হলেই কি সংসদ সদস্য পদ বাতিল? যা বলছে বাংলাদেশের সংবিধান

0
1
দল থেকে বহিষ্কার হলেই কি সংসদ সদস্য পদ বাতিল? যা বলছে বাংলাদেশের সংবিধান

রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হলে কি কোনো সংসদ সদস্যের (এমপি) সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি এই সাংবিধানিক প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না। সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে, কোনো এমপি যদি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দেন (ক্রস ভোটিং), তবেই তার আসন শূন্য হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে ‘দল থেকে বহিষ্কার’-কে পদ বাতিলের কারণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পূর্বে এমন একাধিক নজির দেখা গেছে। নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন না থাকায় তিনি মেয়াদের শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন। তবে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করে তার পদ বাতিলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের কাছে আবেদন জানালে তা বিবেচনায় নিয়ে শুনানি বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যেমনটি হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে।

গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম জানিয়েছেন, নৈতিক স্খলনের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।

জামায়াতের বক্তব্য অনুযায়ী, দল তাদের প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করতে পারলেও এমপি পদ থেকে সরাসরি সরাতে পারে না, যা নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াভিত্তিক। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, এ বিষয়ে তারা এখনো জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি। ফলে গাজী নজরুলের এমপি পদ শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, তা স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপ, আইনি ব্যাখ্যা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here