পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর জামে মসজিদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জুমার নামাজে ইমামতি করতে চাইলে বিএনপি-সমর্থকদের আপত্তির মুখে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং কর্মসূচি চলতে থাকে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছেন এবং পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
এর প্রতিবাদে বিকেলে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পরে সন্ধ্যায় পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে পৌর বিএনপির কার্যালয় থেকে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলে পাশের তিন রাস্তার মোড়ে জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্থান ত্যাগ করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনার কারণে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় বাজারের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল এবং হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার জবাবে বিএনপি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, “হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। স্থানীয় কিছু কর্মী-সমর্থক বিএনপির রাতের মিছিলের বিরোধিতা করে সেখানে জড়ো হয়েছিল। পুলিশের অনুরোধে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সরে যায়। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান বা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, “মিছিলকে কেন্দ্র করে তিন রাস্তার মোড়ের দুই পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাঝখানে অবস্থান নেয় এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করে। পরে বিএনপি সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে ফিরে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।”