থাইল্যান্ডের ননথাবুরির একটি স্কুলে গোলাগুলিতে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন বন্দুকধারী শিক্ষার্থী আত্মাহুতি দিয়েছেন।
শুক্রবার ( ৭ আগস্ট) ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলায় অবস্থিত ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৩ জন শিক্ষক, ৩ জন শিক্ষার্থী ও বন্দুকধারী শিক্ষার্থী নিজেই নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন হামলাকারী একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের গোলাপি রঙের ভবনের তৃতীয় তলায় নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে বেগুনি ইউনিফর্ম পরিহিত বন্দুকধারী স্কুল প্রাঙ্গনে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পো তেখ তুং ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা এই তথ্য পান। বেগুনি রঙের শারীরিক শিক্ষার পোশাক পরা এক বন্দুকধারী স্কুলের ভেতরে কয়েক ডজন রাউন্ড গুলি চালায় বলে জানিয়েছেন এক শিক্ষার্থী।
১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে তিনি গুলির শব্দ বুঝতে পারেননি। তার মনে হয়েছিল, হয়তো কেউ আতশবাজি ফোটাচ্ছে অথবা কোনো জিনিসে আঘাত করছে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে আমি ভাবতেই পারিনি যে এটা বন্দুকের গুলির শব্দ। অনেকগুলো গুলি চলেছিল—ঠাস ঠাস ঠাস। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা ছিল। তারপর আবার শুরু হলো।’
নোনথাবুরি প্রদেশের প্লাই ব্যাং উপজেলা পুলিশের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাসাকর্ন চাইতাউইওং জানিয়েছেন, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে নিহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, গুলির ঘটনার পর আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে আসছে। ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ এলাকাটি নিরাপদ করতে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে এবং ক্যাম্পাসের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করেছে।
জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন। ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলটি ডেবসিরিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর একটি নেটওয়ার্কের অংশ। এসব স্কুল থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই স্কুলগুলোর সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষাবিদ ও লেখকরাও রয়েছেন।