৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ময়মনসিংহ আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।
ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতের পিপি মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকা জেলার একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হরিদাসের বিরুদ্ধে জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আদালতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করে। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পিপি আরও জানান, কোতোয়ালি সিআর মামলা নম্বর ১৪৯১/২০১২ (এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা) মামলায় বিচার শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণীর এক বছরের কারাদণ্ড হয়। রায়ের পর তিনি পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি অন্য একটি মামলায় ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে এ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ময়মনসিংহ আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে গত ১২ জুলাই সিআইডি অর্থ পাচারের মামলায় হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে। তার ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। চার দিনের রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র তরণী ২০১০ সালে ভারত থেকে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় এসি মেকানিকের কাজ শুরু করেন। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন।
এর আগে চাকরি, বদলি ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০১৮ সালে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। চলতি বছরের জুনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি আবারও আলোচনায় আসেন। পরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি ওই নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।