মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি মানব জাতিকে নানা স্বভাব ও চাহিদা দিয়েছেন, যার মাঝে রয়েছে ভালো-মন্দ গুণাবলি। এর মধ্যে কিছু বিষয় মানুষ লুকিয়ে রাখতে চায়, যা আমরা “প্রাইভেসি” বলি। এসব গোপন বিষয় প্রকাশ পেলে কখনো লজ্জাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, আবার কখনো তা মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই মানুষের গোপন বিষয় খুঁজে বের করা বা তা প্রকাশ করা ইসলামে গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা গুপ্তচরবৃত্তি করো না।’ (সূরা হুজুরাত, আয়াত ১২)। এই নির্দেশ স্পষ্টভাবে মানুষের গোপনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে।
নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মানুষের দোষ তালাশ করো না এবং গুপ্তচরবৃত্তি থেকেও বিরত থাকো। একজন মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের রক্ত, সম্মান ও সম্পদ হারাম।’ (মুসলিম-২৫৬৩)।
হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন করে, আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন। (সহিহ মুসলিম)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর একটি ঘটনা থেকে আমরা শিখি, কিভাবে তিনি একজন ব্যক্তির মদপানের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রশ্ন করেননি বা তার পেছনে পড়েননি। কারণ শরিয়ত অহেতুক গুপ্তচরবৃত্তি করতে নিষেধ করেছে।
মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। মানুষের দোষ খোঁজা বা তা নিয়ে আলোচনা করা স্পষ্টভাবে হারাম।


