আজমির শরীফ নিয়ে বিতর্ক, মোদিকে সাবেক আমলাদের চিঠি

প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই খাজা মইনুদ্দিন চিশতির বার্ষিক উরস উপলক্ষে দরগাহে চাদর পাঠিয়ে শান্তি ও সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা দিয়েছেন। অথচ, বর্তমানে দরগাহটি ‘ধারণাগত আক্রমণ’-এর শিকার, যা ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে।

0
166

ভারতের ঐতিহ্যবাহী আজমির শরীফ দরগাহর ওপর একটি জরিপ চালানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থানের একটি স্থানীয় আদালত। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে, রোববার সাবেক আমলাদের একটি দল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে ভারতের ঐতিহ্যবাহী বহুত্ববাদী পরিচয়ের ওপর ‘অবৈধ ও ক্ষতিকর’ কার্যকলাপ বন্ধে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই চিঠির প্রেরকদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর নাজীব জং, যুক্তরাজ্যে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার শিব মুখার্জি, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরাইশি, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল জামিরুদ্দিন শাহ এবং রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর রবি বীরা গুপ্ত।

চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই খাজা মইনুদ্দিন চিশতির বার্ষিক উরস উপলক্ষে দরগাহে চাদর পাঠিয়ে শান্তি ও সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা দিয়েছেন। অথচ, বর্তমানে দরগাহটি ‘ধারণাগত আক্রমণ’-এর শিকার, যা ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে।

২৭ নভেম্বর আজমিরের একটি দেওয়ানি আদালত দরগাহ কমিটি, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের কাছে নোটিশ পাঠায়। অভিযোগ করা হয়, দরগাহটি এক সময় শিব মন্দির ছিল।

চিঠিতে আমলারা আদালতের এমন নির্দেশকে Places of Worship Act-এর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তারা জানান, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতের ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির প্রতি গুরুতর আঘাত।

সাবেক আমলারা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, গত এক দশকে ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। মুসলিম ব্যবসা বয়কট, বসতিতে ভাড়া না দেওয়া এবং প্রশাসনিক উদ্যোগে মুসলিম সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমলারা বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে একটি আন্তঃধর্মীয় বৈঠক ডাকা হোক, যেখানে ভারতের ঐতিহ্যের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।’

চিঠির শেষে তারা বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সংখ্যালঘুদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা আপনাকে আহ্বান জানাই। রাজ্য সরকার ও প্রশাসন যাতে সংবিধান ও আইন মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here