এশিয়া মহাদেশে অস্থিতিশীলতা আর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ সংঘাতের কারণে গেলো বছর বিশ্বব্যাপী বেড়ে গেছে অস্ত্রের বিক্রি।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ সেন্টার সিপ্রি বলছে, ২০২৩ সালে শীর্ষ একশ’ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি ৬৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি গেলো বছর প্রতিটা শীর্ষ অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি একশ’ ডলারের ওপরে ছিল।
২০২৪ সালে অস্ত্র বিক্রি বছর ব্যবধানে আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সিপ্রি। এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বিক্রিতে ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে অস্ত্র উৎপাদন এবং সরবরাহ বেড়ে যায়। ইউক্রেনকে সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করে।
অপরদিকে, রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ বাড়ায়। একই সঙ্গে, গাজায় ইসরাইলি অভিযান ও তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা অস্ত্র বিক্রিতে বড় ভূমিকা রাখে।
সিপ্রি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১টি শীর্ষ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি দখল করেছে। ইউরোপের ২৭টি প্রতিষ্ঠান অস্ত্র, আর্টিলারি ও এয়ার ডিফেন্স বিক্রি বাড়িয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রোস্টেক ৪৯ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি অস্ত্র বিক্রি ১৫ শতাংশ বেড়ে ১,৩৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিক্রি যথাক্রমে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
২০২৪ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সিপ্রি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বাণিজ্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

