চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার চরাঞ্চলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্ষীরাচাষে ভালো ফলন হয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ থেকে ১২ টন ক্ষীরা উৎপাদন হলেও, এ বছর কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে ১৫ থেকে ২০ টন ক্ষীরা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল, এখলাসপুর, মোহনপুর, ফরাজীকান্দি, সুলতানাবাদ ও জহিরাবাদ ইউনিয়নের মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকরা ক্ষীরার চাষ করেন। এ বছর প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে ক্ষীরার আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
এখানকার কৃষকরা জানাচ্ছেন, কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় গত বছর থেকে এ বছরে ক্ষীরা চাষের পরিমাণ বেড়েছে। ক্ষীরা চাষে কৃষকরা এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং তারা এর উৎপাদন বেশি পাচ্ছেন।
চরাঞ্চলের বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠে সবুজ মখমলের মতো বিছিয়ে রয়েছে ক্ষীরাগাছ। সবুজ পাতার মাঝে হলুদ ফুলে ভ্রমর-মৌমাছি উড়ছে। আর গাছের ডগায় ডগায় ঝুলছে কচকচে সবুজ ক্ষীরা। মাঠে কৃষকরা ক্ষীরা সংগ্রহ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলার ষাটনল গ্রামের কৃষক জামাল ও মনির হোসেন, তবদিল হোসেন জানালেন, ক্ষীরা চাষে অন্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভ হওয়ায় তাদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা বলেন, এক বিঘা জমিতে ক্ষীরা চাষ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়, আর বাজারজাত করার জন্য শ্রমিকসহ আরও ৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘায় ক্ষীরা চাষের খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তবে বিক্রির পর তারা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা আয় করেন। এ বছর লাভ আরও বেশি হবে। তারা আশা করছেন, প্রতি বিঘায় ৫০-৭০ হাজার টাকা লাভ হবে।
এখলাসপুর এলাকার কৃষক শাহিন মিয়া, কবির ও মাসুম মিয়া জানিয়েছেন, ক্ষীরা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। এ বছর যেসব ক্ষীরা তারা বিক্রি করেছেন, সেগুলোর ভালো দাম পেয়েছেন। আগামী বছরে আরও বেশি জমিতে ক্ষীরার চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এ বছরের পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলেছেন মুন্সীগঞ্জ থেকে ক্ষীরা কিনতে আসা পাইকার মোজাফফর ও গোলাম রাব্বানী। তারা জানান, এ বছর ১ হাজার ৪০০ টাকা মণপ্রতি ক্ষীরার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঢাকা-যাত্রাবাড়ী যাতায়াত ভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ প্রতিমণ ক্ষীরা বিক্রির জন্য মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়ে। পাইকাররা প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে ক্ষীরা বিক্রি করছেন। এতে প্রতি কেজি ৫ টাকা ও প্রতি মণ ২০০ টাকা লাভ হচ্ছে। এর ফলে খুচরা বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাইকাররা খুশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, এ বছর ৬০ হেক্টর জমিতে ক্ষীরার চাষ হয়েছে এবং প্রতি হেক্টরে ১৫ থেকে ২০ টন ক্ষীরা উৎপাদন হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় ফলন ও দাম দুটোই বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভালো লাভ পাবেন। তিনি বলেন, ‘চরাঞ্চলের চাষিদের মধ্যে ক্ষীরা চাষের প্রতি আগ্রহ বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হতে পারে।


