বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মায়ামি অঙ্গরাজ্যের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের করা এই মন্তব্যের পর বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে।
জেলেনস্কি শান্তি আলোচনার ফলাফল মেনে না নিলে দেশের দখলদারত্ব খোয়াতে হতে পারে বলে মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে ২০২২ সালের পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইনের মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করে রাখার বিষয়টি টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা দখল করে রেখেছে স্বৈরাচারী জেলেনস্কি। দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তার হাতে শাসন করার মতো দেশই অবশিষ্ট থাকবে না।’
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখান করে জেলেনস্কির দাবি ট্রাম্প গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, ‘আমাদের অধিকার আমরাই আদায় করে নেব।’
এই ঘটনার একদিন আগেই ট্রাম্প চলমান সহিংসতার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে বিবৃতি দেন। রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনই যুদ্ধ লাগিয়েছে, দাবি তার।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ক্ষেপেছেন ইউরোপের নেতারা। জার্মানির চ্যাঞ্চেলর ওলাফ শোলৎজ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বানোয়াট ও ক্ষতিকারক’ বলেছেন। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লসের দাবি, ট্রাম্পের মন্তব্যের পেছনে রুশ প্রভাব রয়েছে।
এ ছাড়া উদ্ভূত সংকটে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার।
ট্রাম্প রুশপন্থি অবস্থান নিচ্ছেন- এধরণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ইউরোপজুড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘উল্টোপাল্টা বললে ফল ভালো হবে না। মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার সঠিক পদ্ধতি এটা না।’
জেলেনস্কির রাষ্ট্রপতিত্ব নিয়েও ভুল তথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির গ্রহণযোগ্যতা ৪ শতাংশের বেশি ছিল না।
জবাবে কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব সোশোলজির এক প্রতিবেদন তুলে ধরেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এই জরিপে দেখা যায়, দেশের ৫৭ শতাংশ নাগরিক তার প্রতি সন্তুষ্ট।

