বাংলা নববর্ষ (১লা বৈশাখে) শেরপুর সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এ বাস সার্ভিস কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলায় পাঁচটি বাস দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। যা সদরসহ অন্য চারটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্থানের নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করবে। বাস সার্ভিস পেতে হলে শিক্ষার্থীদের কলেজ আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। আইডি কার্ড ছাড়া শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই এ সেবা পাবে না।
সদরের শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টায় শেরপুর ব্রিজ (ব্রহ্মপুত্র সেতু) ব্যাঙের মোড়, আমতলী বাজার, শিমুলতলী বাজার, পোড়াদহ বাজার, নন্দীর বাজার, নতুন সড়ক, বটতলা, কুসুমহাটি ও শেরী ব্রিজ হয়ে শেরপুর সরকারি কলেজে যাবে।
শ্রীবরদীর শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টায় মাঝপাড়া, বটতলা, শ্রীবরদী বাজার, মাটিয়াকুড়া, গাবতলী, তেনাচিড়া ব্রিজ, ভারেরা, কুরুয়া বাজার, কুড়িকাহনিয়া বাজার, ইন্দিলপুর বাজার, চিথলিয়া, আখের মাহমুদ বাজার ও খোয়ারপাড় হয়ে শেরপুর সরকারি কলেজ।
ঝিনাইগাতীর শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টায় ঝিনাইগাতী বাজার থেকে বাস চালু হয়ে আহম্মদনগর, পাগলার মোড়, তিনানী বাজার ব্রিজ, কাঠালতলী, কোয়ারী রোড, জুলগাঁও নতুন সড়ক, কালীবাড়ী বাজার, বাজিতখিলা, তাতালপুর হয়ে শেরপুর সরকারি কলেজ।
নালিতাবাড়ীর শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টায় গড়কান্দা চৌরাস্তা, বাইপাস, রানীগাঁও বাজার, সন্ন্যাসী ভিটা ব্রিজ, পাঁচগাঁও বাজার, নলজোড়া বাজার, ট্যাংরাখালী মোড়, তিনানী বাজার ব্রিজ, কাঠালতলী, কোয়ারি রোড, জুলগাঁও নতুন সড়ক ও খোয়ারপাড় হয়ে শেরপুর সরকারি কলেজ।
নকলার শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টায় গৌড়দ্বার, পাইস্কা মোড়, নকলা হলপট্টি, গণপদ্দী বাজার, তারাকান্দি বাজার, কানাশাখোলা বাজার ও অষ্টমীতলা হয়ে শেরপুর সরকারি কলেজ। আবার কলেজ ছুটি দুপুর আড়াইটায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বাসটি আগের গন্তব্য চলে যাবে।
এদিকে, বাস সার্ভিস চালুর খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলছেন, অনেক সময় ভাড়া গাড়ির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো। সদরের চরাঞ্চলের অনেককে কখনো হেঁটেও কলেজে আসতে হয়েছে। এখন থেকে এ সকল সমস্যার সমাধান হলো। এছাড়া বাৎসরিক ভাড়া মাত্র ৩শ থেকে ৪শ টাকা।
শেরপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ্ কামাল উদ্দীন বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এ কলেজে পড়াশোনা করতে আসেন। অনেক শিক্ষার্থীর দৈনিক ভাড়া বাবদ ১৫০-২০০ টাকা খরচ হয়। তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর ফলে, শিক্ষার্থীরা সহজে ও নিরাপদে কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারবেন।


