ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, আমলযোগ্য কোনো অপরাধ হলে অবশ্যই মামলা নিতে হবে—সেটি গোপন রাখা যাবে না। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি মামলার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।”
তিনি গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং থানাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের হার বাড়াতে হবে। ডিএমপির প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা তদন্তে আরও সক্রিয় হতে হবে।”
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, “অপরাধ যাতে ঘটতেই না পারে, সেজন্য পুলিশের উপস্থিতি এবং কার্যক্রম বাড়াতে হবে। ছিনতাই অনেক কমেছে, কিন্তু সতর্কতা অব্যাহত রাখতে হবে যাতে পুরনো পরিস্থিতি ফিরে না আসে।”
কমিশনার থানার টহল টিমের সঙ্গে প্রতিটি এলাকার ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীদের সমন্বয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তাদের কাছে থাকা অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য যেন তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়, এমন কাঠামো গড়ার তাগিদ দেন তিনি।
পেশাগত আচরণ প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, “সর্বোচ্চ বিনয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো অবস্থায় দৃষ্টিকটু বা অপেশাদার আচরণ বরদাশত করা হবে না।” রমজান, ঈদ এবং বাংলা নববর্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাফল্যের জন্য ডিএমপির সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভার অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্র্যাফিক) মো. সরওয়ার বলেন, “পুলিশ সদস্যদের ‘আউট অফ দ্য বক্স’ চিন্তা করে কাজ করতে হবে। ট্র্যাফিক এবং ক্রাইম বিভাগের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় দরকার।”
অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস.এন. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল এবং চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করতে হবে।”
সভায় যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন মার্চ মাসে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ যেমন—ডাকাতি, খুন, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সড়ক দুর্ঘটনা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ সার্বিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপির কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়।

