ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সাবেক চেয়ারম্যান শিশু মিয়ার ভাগনে এরশাদ ও বড়পাড়ার নুরুল আমিনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ হয়। অন্যদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভাধীন দিগদাইর গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শিশু মিয়া তার ভাগনে এরশাদকে ওয়ারিশ হিসেবে একটি জায়গা দান করেন। ওই জায়গাটি বড় পাড়ার নুরুল আমিন অন্য ওয়ারিশ থেকে ক্রয় করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে নুরুল আমিন লোকজন নিয়ে জায়গাটি দখল করতে গেলে এরশাদ তাদেরকে বাধা দেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করার পর উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে। খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশসহ সেনাবাহিনীর দুই টিম সেনা সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান বলেন, সরাইল থানার পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এজাহার পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কেন্দুয়ায় আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দিগদাইর গ্রামের কাজী আব্দুল হক, দেলোয়ার হোসেন, কাজী জাকির ও কাজী ফজল মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, দিগদাইর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত উছমান গণীর ছেলে আরিফ মিয়াদের সঙ্গে পাশর্^বর্তী আব্দুল হামিদদের জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যার একটু আগে এ বিরোধ কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় আত্মীয় সূত্রে আবদুল হামিদের পক্ষে একই গ্রামের নূরুল হক ও আরিফুলের পক্ষে কাজী শহীদুল্লার লোকজনসহ উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক চলা সংঘর্ষে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হন।
কেন্দুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শ (তদন্ত) ওমর কাইয়ূম জানান, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

