২০১২ সালে শেরপুরে ডিবি হেফাজতে জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চু (মেকার) মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাবেক হুইপ, সাবেক এমপিসহ ৩৪জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছেলে মোকারুল ইসলাম মহন।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে শেরপুর সদর আমলী আদালতের বিচারক সুলতান মাহমুদ মিলন মামলাটি পিবিআই পুলিশ সুপার জামালপুরকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামীরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাবেক হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সাবেক এমপি ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলী, সাবেক পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান, জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)র ওসি নজরুল ইসলামসহ ৩৪ জন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও সাবেক হুইপ ও এমপি আতিউর রহমান আতিকের নির্দেশে তৎকালীন ডিবির ওসি ও কয়েকজন কনস্টেবলসহ ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের সজবরখিলা মহল্লা থেকে আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চুকে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। পরে ৪ডিসেম্বর রাত আড়াইটার দিকে আবু সিদ্দিকী বাচ্চুর নিথর দেহটি তার বাড়িতে রেখে যায় পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চু ডিস ক্যাবলের ব্যবসার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তার নামে কোন মামলাও ছিল না। তাকে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডিবি হেফাজতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
নিহতের ছেলে মোকারুল ইসলাম মোহন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবাকে হত্যা করার পর পুলিশ পাহারায় জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়। আমরা সেসময় মামলা করতে পারি নাই। মামলা না করার জন্য পুলিশ সব সময় আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতো এবং আমাদের তিন ভাইকেও বিভিন্ন মামলায় দিয়ে হয়রানী করেছে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।
বাদী পক্ষের আইনজীবি আব্দুল আজিজ সজীব রানা বলেন, এই ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহন বাদী হয়ে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা করেছেন। সিআর আমলী আদালত সদর মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই জামালপুর পুলিশ সুপারেক তদন্তভার দিয়েছেন।


