শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনই সত্যি হলো। ১২ বছর পর কোনো চোট ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট একাদশ থেকে বাদ পড়লেন নাথান লায়ন।
২০১৩ সালের অ্যাশেজের পর এবারই প্রথম ফিট থেকেও বাইরে রাখা হলো অভিজ্ঞ এই অফ স্পিনারকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে দিবারাত্রির টেস্টে গোলাপি বলে স্পিনারদের প্রভাব কম হবে ধরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
লায়নের জায়গায় দলে এসেছেন পেসার স্কট বোল্যান্ড। তার সঙ্গে রয়েছেন জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক—অর্থাৎ চার বিশেষজ্ঞ পেসার। অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টারকে ধরলে পাঁচ পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে পেস-নির্ভর এই একাদশ প্রথম দিনেই ব্যাটিংয়ে ভরাডুবির সাক্ষী হয়েছে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে মাত্র ২২৫ রানে।
৩ উইকেটে ১৫৭ রান তোলার পর বাকি ৭ উইকেট হারায় মাত্র ৬৮ রানে। কেউই পঞ্চাশে পৌঁছাতে পারেননি—সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন করেন ৪৬।
স্যাবাইনা পার্কেই ৭০ বছর আগে যেখানে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর (৭৫৮/৮ ডিক্লেয়ার), সেখানে এবার ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যর্থতা হতাশাজনকই বলা চলে।
প্রতিপক্ষ পেলেই ছন্দে ওঠেন এমনই এক বোলার শামার জোসেফ। এই ইনিংসেও তিনি নেন ৪ উইকেট। জাস্টিন গ্রিভস ও জেডেন সিলস নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট—তিন পেসার মিলে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের ইনিংস শুরু করে প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ১৬ রানে। একমাত্র উইকেটটি নেন শততম টেস্টে নামা মিচেল স্টার্ক, বোল্ড করেন কেভলন অ্যান্ডারসনকে।
প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত দিবারাত্রির টেস্ট শুরুর দিনই তাই রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে দুই দলের পেসারদের হাত ধরে।


