পুলিশে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, একাধিক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, কথিত চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে জামালপুর জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরের ফৌজদারি মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আজ শনিবার জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বাজার এলাকার শরিফুল ইসলাম ওরফে শিশির (২৭) এবং পাবনা জেলার আতাইকুলা উপজেলার চরপাড়া (গাঙ্গহাটি) এলাকার রকিবুল ইসলাম রকিব (৩৮)। বর্তমানে তারা জামালপুর শহরে বসবাস করছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার বানীকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কাফি আল সাকিব সিয়ামকে বাংলাদেশ পুলিশে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয় একটি চক্র। চাকরির বিনিময়ে তারা ২৫ লাখ টাকা দাবি করে। চাকরি হওয়ার পর টাকা পরিশোধের শর্তে সিয়ামের পরিবারের কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক ও তিনটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নেওয়া হয়। একই সঙ্গে চাকরি দেওয়ার নামে একটি কথিত চুক্তিপত্রও সম্পাদন করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে ভুক্তভোগী পক্ষ জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করে।
এসময় তাদের থেকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, ছয়টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, চাকরি প্রদানের নামে সম্পাদিত কথিত চুক্তিপত্র এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুজন পরস্পরের যোগসাজশে চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের অভিভাবকদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি জানার পর জেলা পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা নস্যাৎ করে।
এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের তদবির, আর্থিক লেনদেন বা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকলে তার নিয়োগ বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার চেষ্টা কিংবা এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।