প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালানোর জবাব কবে পাবে ইসরায়েল

0
127

প্রতিবেশ দেশ ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবাননের ওপর অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।এমনকি শক্তিশালী ইরানের ভূখণ্ডেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে তারা।ইরান কঠিন জবাব দিলেও অন্যান্য দেশে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।  

সম্প্রতি সিরিয়াতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে লেবাননেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তারা। তাদের দাবি, সিরিয়ায় দ্রুজদের রক্ষা করছে তারা আর লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইরানে পারমাণবিক কর্মসূচিতে আর ইয়েমেনে হুতিদের হামলা প্রতিরোধে হামলার দাবি তাদের।

প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েল চাইলেই এভাবে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা করতে পারে? বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যেখানে ইসরায়েল দখল করে আছে।

গাজা উপত্যকায় ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে তারা। এই অঞ্চলে অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী তাদের। আর তাদের সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। তাই ইসরায়েল মনে করছে তারা যা খুশি তাই করতে পারবে।

বিশ্বে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিশ্ব। আর এই সুযোগ ইসরায়েল তাদের ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থাই ইসরায়েলের লাগাম ধরে রাখতে পারেনি। নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়ে জাতিসংঘ বারবার ইসরায়েলের সমালোচনা করায় তাদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নিয়েছে তেল আবিব। তাদের কর্মকর্তাকে ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তারা। এ ছাড়া সাবেক পোপ ফ্রান্সিস বারবার ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ থেকে বিরত ছিল ইসরায়েল। প্রথমে শোক প্রকাশ করেও তা প্রত্যাহার করে নেয় তারা।

পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় অবৈধ বসতিও বাড়িয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। কেউই থামাতে পরাছে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উদ্বেগ জানিয়েও লাভ হয়নি। কিছু কিছু দেশ গাজায় গণহত্যার কথা বলছে। কিন্তু আইনিভাবে আগাতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসলে কেউই মুখোমুখি অবস্থানে যেতে চাইছে না। আর এই অঞ্চলের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ হয়ে ইসরায়েল সুযোগ নিচ্ছে। ইসরায়েলের জন্য একমাত্র হুমকি ছিল ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ অক্ষ। কিন্তু সেই হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতিকে দুর্বল করে ফেলেছে তারা।

তবে সর্বশেষ ইরানের হামলায় ক্ষতি হয় ইসরায়েলের। ১২ দিনের এই সংঘাতে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে যে আঘাত হেনেছে ইরান তা ভাবতে পারেনি তেল আবিব। আয়রন ডোমকে ফাঁকি দিয়ে একাধিকবার ইসরায়েলের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে ইরান।

এ ছাড়া সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও ইসরায়েলের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। সেখানে হামলা চালানোতে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। ইরান সমর্থিত আসাদ সরকারকে উৎখাতের পর সেখানে ক্ষমতা নেওয়া শারাকে ইসরায়েলের মিত্র ভাবা হচ্ছিল। কিন্ত এই ঘটনায় সীমান্ত লাগোয়া এই প্রতিবেশীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে পারে তাদের।

সৌদি আরবও সিরিয়া সরকারকে সমর্থন দিয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান পুনরায় শক্তি সঞ্চার করবে। চীন ও রাশিয়া এগিয়ে আসতে পারে তাদের সহায়তায়।ইসরায়েল যেমন এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে, ইরানও সেক্ষেত্রে চীন এবং রাশিয়ার মতো পরাশক্তির প্রক্সি হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে এই অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রভাব কমে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here