পশ্চিমবঙ্গের গুরুগ্রাম ছাড়ছেন মুসলিমরা

0
59

আটকের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গের গুরুগ্রাম ছাড়ছেন সেখানকার স্থানীয় মুসলিমরা।তাদের মধ্যে আতঙ্ক যেকোনো সময় ‘বাংলাদেশি’ বলে তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।  পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা সম্প্রতি সেখানকার পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে।

স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের মুকুল শেখ বলছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ এখান থেকে চলে গেছে। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সবাই ভয় পাচ্ছে যে পুলিশ যদি আবার আটক করে বাংলাদেশি সন্দেহ করে, তাহলে কী হবে।’

গত কয়েক মাস ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ ‘বাংলাদেশি’ ধরার যে অভিযান চলছে, সেই প্রক্রিয়াতেই আটক করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষীদেরও। ওইসব রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে কেউ সাতদিন আটক থাকার পরে ছাড়া পেয়েও ভয়ে ঘর থেকে বেরুতে পারছেন না– যদি আবারও পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। অন্য কেউ আবার ট্রেনের রিজার্ভেশন কবে পাবেন, সেই আশায় রয়েছেন – যেদিন টিকিট পাবেন, সেদিনই চলে যাবেন।

অনেকে আবার ট্রেনের টিকিটের অপেক্ষা না করে নিজেরাই বাস ভাড়া করে পাড়ি দিয়েছেন দেশের বাড়ি – পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলার দিকে। মোটামুটিভাবে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। কারও চিন্তা হচ্ছে যে কাজকর্ম ছেড়ে দেশের বাড়িতে ফিরে গেলে সেখানে রেখে আসা ছোট সন্তান আর বয়স্ক বাবা-মাকে কী খাওয়াবেন, তা নিয়ে।

এরা সবাই কর্মসূত্রে দিল্লি লাগোয়া গুরুগ্রামে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও অনেককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মালদা জেলার চাঁচোলের বাসিন্দা আনিসুর রহমান স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে গুরুগ্রামে থাকেন প্রায় আট বছর ধরে। নিজে গাড়ি ধোয়ার কাজ করেন, আর তার স্ত্রী গৃহকর্মী। ছেলেও কাজে লেগে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে গুরুগ্রামের আরও অনেক বাংলাভাষীর মতোই তাকেও পুলিশ আটক করেছিল পরিচয় যাচাইয়ের জন্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাঁচোল থানা থেকে আমার পরিচয় যাচাই করিয়ে আনার পরে আমাকে ছেড়েছে। সাত দিন আটকিয়ে রেখেছিল সেক্টর ১০এ-তে একটা কমিউনিটি সেন্টারে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুপান্থ সিনহা দুই সপ্তাহের মধ্যে দুবার গিয়েছিলেন গুরুগ্রামের বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলে। তিনি বলছিলেন, ‘প্রথমে যখন এদের আটক করে রেখেছিল, তখন একবার গিয়েছিলাম, আবার কদিন আগেও গিয়েছিলাম। সংখ্যাটা বলা কঠিন, কিন্তু অনেক ঘর দেখেছি ফাঁকা পড়ে আছে। মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে গুরুগ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। খোলাখুলি কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন এরা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here