পাগল বেশে আড়াই বছর পলাতক থাকার পর ঠিকাদার সুজাত মিয়া (২৬) হত্যা মামলার আসামি গিয়াসউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (৯ আগস্ট) সিলেট গোয়াইনঘাট থানার সীমান্তবর্তী মনরতল এলাকায় পিবিআই সিলেটের একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে সুজাত হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
সুজাত হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়ন বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ার মৃত নুর আলীর ছেলে।
গিয়াস একই গ্রামের আঞ্জব আলীর ছেলে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গিয়াস ও সুজাত ছাতকের জাহিদপুর এলাকায় বিল্ডিং এর কাজ করতেন। এই সুবাদে গিয়াসের স্ত্রীর সঙ্গে সুজাতের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যতা সৃষ্টি হয়।
২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারী রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের পাশে ভাড়াটিয়া বাসায় ঠিকাদার সুজাত মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে ঘুমের মধ্যে কুপিয়ে পালিয়ে যায় গিয়াস। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন পর ১৯ জানুয়ারী সুজাত মারা যান। পরে নিহতের স্ত্রী নার্গিস বেগম বাদী হয়ে গিয়াস উদ্দীনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে পিবিআই গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় গিয়াস উদ্দিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি সময়ের আলোকে নিশ্চিত করেছেন পিবিআই হবিগঞ্জের এসপি হায়াতুন্নবী।

