দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলায় পৃথক পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে পাঁচজন, রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন, নেত্রকোণায় একজন ও হবিগঞ্জে একজন নিহত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের চার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা ও হাঁস ছড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়ে কৃষক, শ্রমিকসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন।
নিহতরা হলেন তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) ও দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২ টা থেকে ১ টার দিকে জেলার উপর দিয়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় এক কিশোরসহ ২ জন ও তাহিরপুর উপজেলা ১ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ জন ও দিরাই উপজেলায় ১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার।
তিনি জানান জানান, দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের চানপুর গ্রামের গজারিয়া হাটির মো. নূর জামাল (২২) নামের এক যুবক নিহত হন। তিনি গ্রামের আমীর আলীর ছেলে। এছাড়াও এ সময় তোফাজ্জল হোসেন (২২) নামের আরেক জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অপরদিকে হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে তাহিরপুরের জামলাবাজ গ্রামের আবুল কালাম নামের এক হাঁসের খামারির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। এ সময় আরেক হাঁসের খামারি আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার বড়ই হাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩০), জামালগঞ্জের চানপুর গ্রামের নূর জামাল (২৬) এবং তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫)।
এ ছাড়া বজ্রপাতে আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে জেলাজুড়ে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে হাওরে কাজ করা কৃষকরা বিপাকে পড়েন।
রংপুর:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মাঝিপাড়ার মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে সখীপুর গ্রামের একটি মৎস্য খামারে জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছিল। জেলেরা যখন পুকুরে জাল টানছিলেন, তখন স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ খামারের পাড়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরা দেখছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে পুকুরে থাকা জেলে ও পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীরা দগ্ধ ও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মিলন মিয়া ও আবু তালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বজ্রাঘাতে নিহতের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নেত্রকোণা:
নেত্রকোণার আটপাড়ায় হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আলতু মিয়া একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে গ্রামের সামনের মেষি হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যায়, কিছুক্ষণ পর আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বৃষ্টির পর স্থানীয়রা হাওড়ে গিয়ে আলতু মিয়ার নিথর দেহ পরে থাকতে দেখে বাড়িতে নিয়ে আসে।
আটপাড়া অফিসার ইনচার্জ মো. জুবায়দুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, মরদেহের সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।
আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহানুর রহমান জানান, বজ্রাঘাতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে, তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত আলী উজ্জল (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহমত আলী পাশের বায়রাউড়া গ্রামে ধান কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশে কালো মেঘ জমে ওঠে এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।