ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধে যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল, কাতারে সাম্প্রতিক হামলায় তা খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তবে এ ঘটনা দোহার কূটনৈতিক তৎপরতাকে প্রতিহত করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান বিন জসিম আল থানি। তিনি বলেন, কাতারের কূটনীতি কোনো দেশের আচরণের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এই হামলার মধ্যেও দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহার আবাসিক এলাকায় ইসরায়েল হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ওই সময়ে হামাসের শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্র খলিল আল হায়া এবং হাইকমান্ডের অন্যান্য সদস্যরা গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলার কারণে কূটনৈতিক তৎপরতায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও এটি কাতারের কূটনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই হামলা এবং এতে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন এবং নৈতিক মানদণ্ডের স্পষ্ট লঙ্ঘন। মধ্যস্থতাকারী দেশে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলাকালীন এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি শান্তিপ্রিয় অবস্থান বজায় রেখে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং মানুষের নিরাপত্তার জন্য কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
সূত্র জানাচ্ছে, গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামাসের উচ্চ পর্যায়ের নেতা নেই বলে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, হামলা এককভাবে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে করা হয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
কাতার ২০১৭ সাল থেকে হামাসের হাইকমান্ডের নেতাদের আশ্রয় দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের তিনটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশের মধ্যে কাতার অন্যতম। বাকি দুটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর।
তথ্যসূত্র : সিএনএন


