পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আবুল কাশেমকে রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডা. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার এক পাঁচ বছর বয়সী শিশুর বাবার সঙ্গে অশালীন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। শিশুটির বাবার কাছ থেকে মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং শিশুটিকে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শিশুটির বাবা-স্বজনের সঙ্গে অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দেন।
এ ঘটনার পর সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং আরএমও পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেন। ডা. আবুল কাশেম শোকজের জবাব দিলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় তার আচরণকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন। সিভিল সার্জন জানান, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।
ডা. আবুল কাশেম কাজের চাপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে ভুল স্বীকার করেছেন এবং শিশুটির পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, শিশুটির ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী কিশোর কণিক রায় (১৭) পঞ্চগড় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। আদালত তাকে যশোর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটির পরিবার তাকে প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটির বাবা অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।

