মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে সিরিয়ায় ফিরেছেন প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী

0
53

বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে সিরিয়ায় ফিরেছেন প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী। এমন তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রত্যাবর্তন সিরীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জন্ম নেওয়া আশাবাদের প্রতিফলন হলেও তাদের জীবন পুনর্গঠনের পথে রয়েছে নানা সংকট।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই এই প্রত্যাবর্তন শুরু হয়। গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর জানায়, সিরিয়ার ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আরও ১৮ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের আদি এলাকায় ফিরে গেছেন।

২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধটি ধীরে ধীরে এক ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নেয়। এতে দেশটির ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের প্রায় অর্ধেকই দেশত্যাগে বাধ্য হন।

যদিও অনেকেই এখন ফিরছেন, তবে বাস্তবতা রয়ে গেছে কঠিন। ইউএনএইচসিআর-এর মতে, ফেরা মানুষদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, ন্যূনতম নাগরিক সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা, চরম বেকারত্ব এবং এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এই সব মিলিয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীর ও জটিল হয়ে উঠছে।

বর্তমানে সিরিয়ার অভ্যন্তরে ৭০ লাখের বেশি মানুষ এখনো নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেননি। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন আরও ৪৫ লাখের বেশি মানুষ।

ইউএনএইচসিআর বলছে, এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৃহত্তর সহায়তা প্রয়োজন। স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বড় আকারের বিনিয়োগ। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বর্তমানের মতো করে তহবিল কমে গেলে মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্র: আল জাজিরা