“প্রয়োজনে গণতন্ত্রের জন্য আবারও রক্ত দিতে প্রস্তুত বিএনপি”: মির্জা ফখরুল

0
70

বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রয়োজনে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তাদের আবারও বুকের রক্ত দিতে কোনো দ্বিধা নেই। শুক্রবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারকে তিনি ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘মনস্টার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সরকার সব কিছুকে তছনছ করে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বিএনপি সব সময়ই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে—১৯৯০ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনও এর উদাহরণ বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ১৫ বছরে বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হয়েছে; ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, ২০ হাজার নেতাকর্মী নিহত এবং এক হাজার সাতশ’ ঊর্ধ্বে মানুষ গুম করা হয়েছে—এমন কথাও তিনি বলেন।

ফখরুল বলেন, এত ত্যাগ স্বীকার করার পরও শিশু ও নারী হত্যা হয়েছে, কিন্তু জনগণকে সঠিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হবে—যা সম্ভব একমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যতই সংস্কারের কথা বলা হোক, যতই বুদ্ধিজীবীরা কথাবার্তা বলুক—নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার না এলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। তিনি জানান, বিএনপি সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়; দলের জন্ম থেকেই সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান। বিএনপিকে নিয়ে ছেয়ে দেওয়া মিথ্যাপ্রচারের কোন ফল হবে না।

চিহ্ন ও প্রতীক নিয়ে প্রশ্নও তোলেন ফখরুল। তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অযথা বিতর্ক করা হচ্ছে; কোন মার্কা দেওয়া হবে তা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব—বিএনপি এতে হস্তক্ষেপ করে না। তিনি যুক্তি দেন, ধানের শীষ এতটাই জনপ্রিয় যে এটাকে আটকাতে শত্রুরা চক্রান্ত করছে। সভায় স্লোগান দিয়ে ফখরুল বলেন, “মার্কা কোনটা? — ধানের শীষ; ধানের শীষ নিয়ে জয়লাভ করতে হবে।”

তিনি যোগ করেন, গণতন্ত্র সহজে আসে না—তার জন্য অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং মানুষের কাছে যাওয়া দরকার। বিএনপি ঘোষিত সময়—ফেব্রুয়ারিতে—নির্ধারিত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, ঘোষিত সময়ে নির্বাচন না হলে তারা তা মানবে না।

এ সময় তিনি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমকে ইসরায়েলের বাহিনী গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার খবর উল্লেখ করে তার মুক্তি দাবি করেন এবং সরকারের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

ফখরুল আরো সতর্ক করেন যে, একটি পক্ষ আমলাতন্ত্রকে নিজেদের কেবিনেটের মতো করে নিচ্ছে; নির্বাচনকালে আমলাতন্ত্র ও নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তা বিএনপি মেনে নেবে না। তিনি পুনরাবৃত্তি করেন—ধানের শীষ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা বন্ধ করুন; আইন করেই সংস্কার হয় না, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে।