প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত না হলে দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই নিতে হবে: দুদক কমিশনার

0
27

কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত না হলে তার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই দায় নিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।

সোমবার ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুদকের ১৮৬তম গণশুনানিতে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই গণশুনানিতে তিনি বলেন, “আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ছিলাম। ৩৩ বছর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আজ দুর্নীতি অক্টোপাসের মতো সমাজকে ঘিরে রেখেছে।” তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে প্রথমেই নিজেকে অন্যের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে, কারণ নির্ভরশীলতা শক্তি ও মন্দ দূর করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তিনি কর্মকর্তাদের অর্জিত জ্ঞানের সদ্ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে বলেন এবং পরিবার থেকেই দুর্নীতিবিরোধী চেতনা গড়ে তোলার জন্য সন্তানদের নিয়মিত শুদ্ধাচার ও শিষ্টাচার শেখানোর গুরুত্ব দেন।

দুদক কমিশনার বিশেষত হাসপাতালগুলোতে গড়ে ওঠা দালালচক্রকে সমাজের জন্য অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ সহজে শর্টকাট ব্যবস্থায় অনেক অর্থ আয় করতে চায়, যাদের আমরা দালাল বলি। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারি হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দক্ষ টেকনিশিয়ান না থাকার অজুহাতে মেশিন নষ্ট দেখিয়ে রোগীদের বাইরের প্যাথলজিতে পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিছু দালালচক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করছে—‘এই রিপোর্ট ভালো হয়নি, অন্য ল্যাবে যান’—এমন পরিস্থিতির শিকার তিনি নিজেও হয়েছিলেন বলে জানান। এই দালালচক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে দায়ভার নিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেই বলে তিনি জোর দেন।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’—দুদকের এই স্লোগানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হয়রানির শিকার ও সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলার মোট ২৯টি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে দুদকের তফসিলভুক্ত ৭৪টি অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কিছু অভিযোগ দুদক সরাসরি অনুসন্ধান করবে এবং কিছু অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধানও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

গণশুনানিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা সরাসরি দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে জেলা শিক্ষা অফিস, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, জেলা সদর হাসপাতাল, ওজোপাডিকো, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, পৌরসভা, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের হয়রানির চিত্র তুলে ধরেন। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করাই এ গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য। জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন এবং এ গণশুনানির আয়োজন করে দুদকের ঝালকাঠি পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়।