আসছে নতুন পে-স্কেল: বাতিল হতে পারে যে সকল সুবিধা

0
85

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের মেয়াদেই গেজেট আকারে নতুন পে-স্কেল প্রকাশ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এরই মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য গঠিত পে-কমিশন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য পরিবর্তন:

  • নতুন কাঠামোতে শুধু বেতন নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পদোন্নতিসহ নানা ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সাথে বর্তমান বেতন স্কেলের কিছু সুবিধা বাতিল হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ‘সাকল্য বেতন’ বা ‘পারিশ্রমিক’ নামে একটি বিকল্প বেতন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কাঠামোয় বর্তমান কাঠামোর কোনো ভাতা বা আর্থিক ও অনার্থিক সুবিধা থাকবে না। অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে এই ধরনের কাঠামো প্রচলিত আছে।

  • বিভিন্ন কমিটির সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারীরা যে সম্মানী বা ভাতা পান, তা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে কমিশন। কর্মকর্তারা নিজ নিজ পদের দায়িত্ব পালনের জন্য এই সম্মানী নিচ্ছেন, যার কারণে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাবও কমিশনের কাছে দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও সময়সীমা:

  • অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে যে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে, তা সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে। ডিসেম্বরে চলতি বাজেট সংশোধনের কাজ শুরু হবে।

  • তিনি আরও বলেন, পে-কমিশনের গেজেট প্রকাশের ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে, তবে আগামী বছরের শুরুতেই এটি কার্যকর হতে পারে।

  • অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

পে-স্কেলের পূর্ববর্তী বৃদ্ধি (২০১৫):

সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেলে সর্বোচ্চ গ্রেড-১ এর মূল বেতন ১৯৫ শতাংশ (৪০ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকা) এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ২০১ শতাংশ (৪ হাজার থেকে ৮ হাজার ২৫০ টাকা) বৃদ্ধি করা হয়েছিল।