গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অবিস্ফোরিত বোমা ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

0
70

গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর নতুন হুমকি তৈরি করেছে অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র ও বোমা। যুদ্ধবিরতির পর ধ্বংসস্তূপে ফিরে নিজেদের জীবন পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন বহু পরিবার। তবে এসব জায়গায় থাকা অবিস্ফোরিত অস্ত্র শিশু ও বেসামরিক জনগণের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।

শনিবার দুপুরে শোরবাসি পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দে বাইরে এসে দেখেন, পরিবারের ছয় বছর বয়সী যমজ শিশু ইয়াহিয়া ও নাবিলা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের ভাষ্যে, তারা খেলাচ্ছলে একটি গোলাকার বস্তু পেয়েছিল, যা দেখতে খেলনার মতো ছিল। সেটি স্পর্শ করতেই বিস্ফোরণ ঘটে। আহত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব নাও হতে পারে।

অস্ত্রবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপে ছুটে যাচ্ছেন হারানো জিনিসপত্র ও মরদেহ খুঁজতে। কিন্তু এসব এলাকায় এখনও অবিস্ফোরিত বোমা ও যুদ্ধাস্ত্র পড়ে রয়েছে, যা নতুন প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের (ইউএনএমএএস) প্রধান লুক ইরভিং জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পরিত্যক্ত এলাকাগুলোতে বিস্ফোরক ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তার ভাষায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত কমপক্ষে ৫২ জন ফিলিস্তিনি অবিস্ফোরিত বোমার আঘাতে নিহত এবং ২৬৭ জন আহত হয়েছেন—নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতিতেও ৫৬০টি অবিস্ফোরিত মারণাস্ত্র পাওয়া গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারে আরও অনেক। গাজা জুড়ে প্রায় ৬ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যার ফলে জননিরাপত্তায় বড় সংকট দেখা দিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে, গাজায় অবিস্ফোরিত গোলা ও যুদ্ধাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করতে আরও বিশেষজ্ঞ দল কাজে যোগ দেবেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। এতে শিশুরা ও সাধারণ মানুষ নতুন বিপদের থেকে কিছুটা নিরাপত্তা পাবে।

তথ্যসূত্র : এপি