শাপলা প্রতীক পেতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আন্দোলনেও যাবে এনসিপি

0
52

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রশাসনে কর্মরতদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ পরিহার করে বাংলাদেশের প্রশাসন হয়ে ওঠার কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রশাসনে বিএনপিপন্থি, জামায়াতপন্থি বা পূর্বের ক্ষমতাসীন দলের পন্থি আচরণ আগামীতে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

শনিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসনের অভ্যন্তরে চলমান পক্ষপাতমূলক আচরণের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, “প্রশাসনে এখন পর্যন্ত কেউ বিএনপিপন্থি আচরণ করেন, কেউ জামায়াতপন্থি আচরণ করেন। আবার কেউ পূর্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল ওই পন্থি আচরণ করেন।”

তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এবার তারা অনেকটাই পার পেয়ে গেছে। এই পর্যায়ের অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের আগে ছিল না। কিন্তু আগামীতে যদি তারা এই আচরণ বহাল রাখেন আর আমাদেরকে এমন একটা বড় ঘটনার দিকে যেতে হয়। তখন কেউ আর বিন্দুমাত্র আশ্রয় প্রশ্রয় পাবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করব আপনারা দলীয় প্রশাসন না হয়ে আপনারা বাংলাদেশের প্রশাসন হয়ে উঠুন।”

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি নেতা বলেন, “হাইকোর্টে আওয়ামী লীগের অনেক দোসর এখনো বসে আছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ আদালতে আইনজীবী থেকে শুরু করে বিচারক পর্যায়ে এমন অনেকে আছে যারা সুযোগ পেলেই গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলার আসামিদেরকে জামিন দিয়ে দেয়। টাকার বিনিময়ে হচ্ছে, আবার পলিটিক্যাল নিগোসিয়েশনের মধ্যে হচ্ছে।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টরা কঠোর না হলে আগামীর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে না এবং নির্বাচন একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।

সারজিস আলম অভিযোগ করেন যে, আইনগতভাবে শাপলা প্রতীক পেতে এনসিপির কোনো বাধা না থাকলেও নির্বাচন কমিশন তাদের জায়গা থেকে স্বেচ্ছাচারিতা করছে ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যদি এনসিপিকে শাপলা প্রতীক পেতে রাজপথে রাজনৈতিকভাবে কর্মসূচিতে যেতে হয়, তাহলে এনসিপি একই সাথে ওই স্বেচ্ছাচারী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আন্দোলনেও যাবে।” তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচন কমিশন অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা প্রদর্শন করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে তাদের ওপর এনসিপি আস্থা রাখতে পারবে না।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এককভাবে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্ব দিতে পারবে না। সেই জায়গায়ও এনসিপির নিশ্চয়তা আবশ্যক।”

এনসিপি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা আহ্বায়ক কমিটি ও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার লক্ষ্য নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খানের সভাপতিত্বে এই কিশোরগঞ্জ সমন্বয় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির ও দিদার শাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।