অবহেলিত সাতক্ষীরা: ৪১ বছরেও নেই বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প

0
105

দেশের অন্যতম রাজস্বসমৃদ্ধ জেলা সাতক্ষীরা উন্নয়নে এখনও পিছিয়ে। জেলার ৮০ শতাংশের বেশি সড়ক এখনো কাঁচা, খানা-খন্দে ভরা। ভোমরা স্থলবন্দর, সুন্দরবনের মধু, চিংড়ি, আম, কুল-বরইসহ বহু খাতে বিপুল রাজস্ব আসলেও উন্নয়নের ছোঁয়া খুবই সীমিত।

এলজিইডি সাতক্ষীরা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৫ হাজার ৭৮৮টি সড়ক রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ১১ হাজার ২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৭২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। আয়তনে দেশের ২৫তম বৃহত্তম জেলা হওয়া সত্ত্বেও সাতক্ষীরায় নেই বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা কিংবা রেললাইন।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তা-ঘাটের খারাপ অবস্থার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সমস্যা, বর্ষাকালে অনেক জায়গায় হাঁটু পানি উঠে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, “জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাতক্ষীরা উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, স্থানীয় প্রতিনিধিদের দ্বন্দ্বে উন্নয়ন ব্যাহত হয়।”

যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল বলেন, “আমরা সরকারের কাছে বিপুল রাজস্ব দিয়ে আসছি, কিন্তু উন্নয়ন নেই। বিশ্ববিদ্যালয় বা রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বহু বছর শুনে আসছি, বাস্তবায়ন হয়নি।”

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মাসুম বিল্লাহ বলেন, “প্রতিবার দুর্যোগে উপকূলীয় সড়কগুলো ভেঙে যায়, কিন্তু সংস্কার হয় না। রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলার শিকার আমরা।”

তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের রবীন দাস বলেন, “বর্ষায় হাঁটু পর্যন্ত জল উঠে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউই ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না।”

গ্রামীণ গৃহবধূ আছিয়া খাতুন বলেন, “রাস্তা এত খারাপ যে ধান-চাল পর্যন্ত আনা যায় না। মাথায় করে খাবার আনতে হয়।”

এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান খান জানান, “১১ হাজার কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র দুই হাজার ২৩০ কিলোমিটার পাকা। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ‘সাতক্ষীরা গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প’ একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রকল্পটি পাশ হলে জেলার উন্নয়নের চিত্র পাল্টে যাবে।”