আধুনিক খুলনার নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার চালু, স্থানান্তরিত হলো ১০০ বন্দি

0
36

খুলনা শহরের পুরাতন কারাগারের জরাজীর্ণ ইতিহাসের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল খুলনা জেলা কারাগার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার (১ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন খুলনার নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুরাতন কারাগার থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০ বন্দিকে নতুন এই কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে বন্দিদের আনা হয় নতুন কারাগারে, যেখানে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

নতুন কারাগারের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. মনির আহমেদ, খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান, ডেপুটি জেল সুপার আব্দুল্লাহ হেল আল আমিন ও জেলার মুহাম্মদ মুনীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো ১০০ বন্দির স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে। নতুন জেল হওয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে। আমরা ধীরে ধীরে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোব।”

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
খুলনা সিটি বাইপাস (রূপসা ব্রিজ রোড) সংলগ্ন ৩০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে নতুন এই কারাগার কমপ্লেক্স। এখানে নির্মিত হয়েছে মোট ৫৭টি স্থাপনা, যার মধ্যে বন্দিদের থাকার জন্য ভবন রয়েছে ১১টি। পাকা রাস্তা, রঙিন ভবন, পার্কিংসহ টাইলস করা ফুটপাত, মসজিদ ও হাসপাতাল নিয়ে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক কারাগার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিরাপত্তা: বন্দিদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতিটি শ্রেণির বন্দির থাকার ভবনের চারপাশে পৃথক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে এক শ্রেণির বন্দি অন্য শ্রেণির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে।

বিশাল প্রাচীর: পুরো কারাগার এলাকা ঘিরে নির্মিত হয়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ ও উঁচু প্রাচীর।

আধুনিক ফাঁসির মঞ্চ: দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে নির্মিত হয়েছে আধুনিক ‘ফাঁসির মঞ্চ’। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এটি দেশের সবচেয়ে উন্নত ও সুরক্ষিত ফাঁসির ব্যবস্থা।

২০১১ সালে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত ১৪৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির কাজ বারবার বিলম্বিত হয়। সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানোর পর দু’দফা বাজেট সংশোধনের পর প্রকল্পটির চূড়ান্ত ব্যয় দাঁড়ায় ২৮৮ কোটি টাকা।

কারাগারটির পূর্ণ ধারণক্ষমতা ৪ হাজার বন্দির হলেও বর্তমানে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি অনুসারে প্রায় ২ হাজার বন্দি রাখার উপযোগী করে এটি চালু করা হয়েছে।

নতুন কারাগারে বন্দিদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সুযোগ। কারাগার প্রাঙ্গণে রয়েছে হাসপাতাল, মসজিদ, ওয়ার্কশপ এবং খোলা প্রাঙ্গণ, যেখানে বন্দিরা নির্দিষ্ট সময় শারীরিক অনুশীলন ও কাজের সুযোগ পাবেন।

কারা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই বন্দিরা শুধু শাস্তি না ভোগ করুক বরং পরিবর্তনের সুযোগ পাক। নতুন কারাগার সেই লক্ষ্যেই নকশা করা হয়েছে।”

নতুন এই কারাগার চালুর মাধ্যমে খুলনা অঞ্চল এখন একটি আধুনিক ও মানবিক কারা ব্যবস্থাপনার দিকে পদক্ষেপ নিল, যা দেশের কারা সংস্কারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।