শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং এক যুবদল নেতাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারিকান্দি এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নাসির বেপারী এবং তাজুল ছৈয়াল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
রবিবার (২ নভেম্বর) সকালে এই বিরোধের জেরে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
হাতবোমার আঘাতে যুবদল নেতা সালাউদ্দিন বেপারী ও কামাল বেপারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করেছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি মাইনুল ইসলাম) বলেন, “আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বেশ কিছু হাতবোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে। যারা এই নাশকতা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাসির বেপারীর স্ত্রী সাবিনা আক্তার বলেন, “আমরা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বোমার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি আমাদের বাড়িতে বোমা হামলা হচ্ছে। জানালার গ্লাস ভেঙে গেছে, ধোঁয়ায় চারদিক ভরে গেছে।”
তিনি তাজুল ছৈয়াল, মমতাজ বেপারী, মন্নাপ বেপারী, সুজন, রনি ভূঁইয়া ও টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
আহত সালাউদ্দিনের স্ত্রী সুমি বলেন, “আমার স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বোমার শব্দে জানালার কাছে গেলে তিনি আহত হন। এটি পরিকল্পিত হামলা।” তিনি নিজের পরিবারের নিরাপত্তা ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, চম্পা আক্তার নামে অপর এক নারী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “নাসির বেপারী ও তার লোকজন আমাদের বাড়িতে বোমা হামলা করেছে। তারা হুমকি দিয়েছে, বাড়িঘরে থাকতে দেবে না। আমরা এলাকায় শান্তি চাই।” তবে অভিযুক্ত তাজুল ছৈয়ালের বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে; পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।