জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতীক হিসেবে শাপলা কলি নিতে শেষ পর্যন্ত সম্মত হয়েছে। রবিবার (২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই তথ্য জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “প্রতীক হিসেবে শাপলা কলি নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছি। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ ও শাপলা কলির মধ্যে লড়াই হবে।”
প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রাথমিক দ্বিমত থাকার পরও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা শাপলা কলি নেব। এখন এখানে আপনাদের একটা বিষয় থাকতে পারে, শাপলা নিয়ে কিন্তু আমরা এখনো ব্যাখ্যা পাইনি। নির্বাচন কমিশনের যে স্বেচ্ছাচারী আচরণ, কিন্তু এখন কি তাইলে আমরা প্রতীক নিয়ে পড়ে থাকব? আমরা কি ইলেকশন ফেজে (পর্যায়ে) ঢুকব না? তো সে জন্য আমরা বৃহত্তর স্বার্থটা চিন্তা করেই এই ডিসিশনটা (সিদ্ধান্ত) নিচ্ছি।”
তিনি দাবি করেন, শাপলা কলি প্রতীক নিয়েও দেশজুড়ে এনসিপি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তার মতে, “এটা শাপলার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে শাপলা কলি হয়েছে। অর্থাৎ শাপলাও আছে, কলিও আছে।”
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ইসি প্রতীকের তালিকা সংশোধন করে শাপলা কলি যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এনসিপি এটি প্রত্যাখ্যান করে ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়েছিল।
বিএনপির সঙ্গে জোটের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠা গুঞ্জন উড়িয়ে দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে নিজস্ব প্রতীকের অধীনে কুক্ষিগত করে বাংলাদেশে একদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এনসিপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।