মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, বিভাজন নয়— জামায়াত আমির

0
51

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতের পার্থক্য স্বাভাবিক, তবে তা যেন বিভাজন বা সংঘাতে রূপ না নেয়, এমন আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ভোরে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আমরা চাই— সবাইকে নিয়েই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ হোক।”

ডা. শফিকুর রহমান জানান, তিনি ১৯ অক্টোবর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন এবং তিন দিন পর ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

“আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছি। প্রবাসীরা দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের কথা বলেছেন। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি— বাংলাদেশ এখন ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে, আর এ লড়াইয়ে প্রবাসীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে,” বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, প্রবাসীদের ভোটার করার বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন উদ্যোগ নিলেও সফটওয়্যার জটিলতার কারণে অনেকেই নিবন্ধন করতে পারেননি।

তিনি বলেন, “এখনও অনেক প্রবাসী ভোটার হতে পারেননি। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অন্তত আরও ১৫ দিন সময় বাড়ানোর অনুরোধ করছি।”

ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন নাগরিকের এনআইডি ও বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই ভোটার হওয়ার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।”

যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “দুনিয়ার সব দেশের সঙ্গে আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই। যেখানে গিয়েছি, সবাই আগ্রহ ও সম্মান দেখিয়েছে।”

বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা দিয়েছে, তবে সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। আমাদের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত আছে। সময়মতো পূর্ণাঙ্গ তালিকা জানানো হবে।”

তিনি যোগ করেন, “জামায়াতে ইসলামী একা নির্বাচন করবে না। জাতীয় স্বার্থে অন্য দলগুলোকেও সঙ্গে নেওয়া হবে। উপযুক্ত সময়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মতানৈক্য থাকতে পারে, কিন্তু মতবিরোধ যেন না হয়। মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা সব দলের মতকে শ্রদ্ধা করি; মতানৈক্য মানেই অনৈক্য নয়।”

সরকারের আলোচনার আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার সময় বেঁধে দেয়নি, শুধু অনুরোধ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি বসে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, সেটি সরকারের জন্যও ইতিবাচক হবে।”

এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।