যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, মুক্তি পেল পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দি

0
62

যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। নতুন হামলায় আবারও ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ঘটেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েল পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং ৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের পরে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর আল-আকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বর্তমানে ইসরায়েলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি আটক রয়েছেন, যাদের অনেককেই কোনো অভিযোগ ছাড়াই প্রশাসনিক আদেশে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

এর আগে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (ICRC) মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের ৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে। এতে যুদ্ধবিরতির আওতায় মোট ২৭০টি মরদেহ ফেরত এসেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত ৭৮টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে এবং বাকি মরদেহগুলো পরীক্ষার পর পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, অনেক মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন, হাত বাঁধা, চোখে কাপড় বাঁধা ও মুখ বিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দক্ষিণ গাজার রাফাহর উত্তরে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কিছু ব্যক্তি “ইয়েলো লাইন” — অর্থাৎ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন সীমা — অতিক্রম করায় তারা পাল্টা হামলা চালায়।

তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইসঙ্গে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি গুলিতে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে আল-আহলি আরব হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম জানান, ইসরায়েল কোয়াডকপ্টার ড্রোন দিয়ে আংশিক ধসে পড়া ভবনে গ্রেনেড নিক্ষেপ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষায়, এটি “যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন।”

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ১২৫ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এসব হামলা অব্যাহত থাকলে পূর্ণমাত্রার সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে।