লুইস দিয়াস—একাই যেন পুরো নাটকের কেন্দ্রবিন্দু। তার জোড়া গোলেই এগিয়ে গিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ, আবার তিনিই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্রথমার্ধেই। তবু ১০ জনের দল নিয়েও থামেনি জার্মান জায়ান্টরা। মঙ্গলবার রাতে পার্ক দে প্রিন্সে চ্যাম্পিয়নস লিগের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনকে (পিএসজি) ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।
প্রথমার্ধজুড়ে দিয়াসের নৈপুণ্যে ম্যাচ ছিল বায়ার্নের দখলে। চতুর্থ মিনিটেই সার্জ গনাব্রির ব্যাকফ্লিক পাসে বল পেয়ে মাইকেল ওলিসের শট ফিরিয়ে দেন পিএসজি গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ে, কিন্তু ফিরতি বলে বজ্রগতির শটে গোল করেন দিয়াস। মৌসুমের নবম গোলটি এভাবেই যোগ হয় তার নামের পাশে।
৩২তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন এই কলম্বিয়ান তারকা। মাঝমাঠে মারকিনিয়োসকে পরাস্ত করে একক প্রচেষ্টায় ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি (২-০)। এরপরও সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন—তবে ইয়োসিপ স্টানিশিচের গোল অফসাইডে বাতিল হয় এবং জোশুয়া কিমিখের দূরপাল্লার শট সামান্য বাইরে দিয়ে যায়।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই ম্যাচে আসে নাটকীয় মোড়। আশরাফ হাকিমির ওপর ট্যাকলের ঘটনায় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হয় দিয়াসকে, কিন্তু ভিএআরের পরামর্শে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেন। মাঠ ছাড়েন দিয়াস, আর ১০ জন নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নামতে হয় বায়ার্নকে।
একজন কম নিয়েও দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলায় খেলে যায় দলটি। পিএসজি বল দখলে আধিপত্য করলেও কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি। ৬৫তম মিনিটে খভিচা কভারাটসখেলিয়ার নিচু শট ও ভিতিনহার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ম্যানুয়েল নয়ার।
অবশেষে ৭৪তম মিনিটে লি কাং-ইনের ক্রসে বদলি খেলোয়াড় জোয়াও নেভেসের হেডে ব্যবধান কমায় পিএসজি (২-১)। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর গোলের দেখা পায়নি তারা। নেভেসের শেষ দিকের হেড সামান্য বাইরে গেলে শেষ হয়ে যায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা।
শেষ বাঁশির পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বায়ার্ন শিবির। লাল কার্ডের ধাক্কা, প্রতিপক্ষের চাপ—সব সামলে তারা তুলে নিয়েছে দারুণ এক জয়। এই জয়ে টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে মৌসুমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল বায়ার্ন মিউনিখ এবং গোল ব্যবধানে আর্সেনালকে পেছনে ফেলে উঠে গেল তালিকার শীর্ষে। অন্যদিকে, পিএসজির জন্য এটি ইউরোপিয়ান মৌসুমে প্রথম পরাজয়—যা তাদের জন্য একেবারেই সুখকর নয়।