সহজ ম্যাচ কঠিন করে জেতা পাকিস্তানের পুরোনো অভ্যাস। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফয়সালাবাদে ঠিক তেমনই এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিল তারা। জয়ের অবস্থান থেকে হঠ্যাৎ ছন্দ হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত চরম নাটকীয়তা উপহার দিয়ে ২ বল বাকি থাকতে ২ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।
ফয়সালাবাদে ১৭ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে এই ম্যাচ দিয়ে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এই জয়ের ফলে পাকিস্তান এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস: আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৬৩ রানে গুটিয়ে যায়। প্রোটিয়াদের ইনিংসে ওপেনার লুহান ড্রি প্রিটোরিয়াস ৫৭ ও কুইন্টন ডি কক ৬৩ রানের ফিফটি করেন। ১৬ ওভারে ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর আর বড় জুটি গড়তে পারেনি সফরকারীরা। শেষ দিকে তারা মাত্র ৭২ রানে ৭ উইকেট হারায়। নবম উইকেটে লুঙ্গি এনগিডি ও কর্বিন বশ ৩৪ রান যোগ করেন, যেখানে কর্বিন একাই করেন ৩২ রান। সব মিলিয়ে কর্বিন ৪০ বলে ৪১ রান করে দলের স্কোরকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যান।
বোলিংয়ে পাকিস্তানের হয়ে নজর কাড়েন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ ও পেসার নাসিম শাহ। দুজনই ৩টি করে উইকেট নেন। আবরার হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু রিভিউ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান বেঁচে যান।
পাকিস্তানের ব্যাটিং এবং নাটকীয়তা: ২৬৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ফখর জামান (৪৫) ও সায়েম আইয়ুব (৩৯) মিলে ৮৭ রানের ভালো জুটি গড়েন। কিন্তু ভালো শুরুর পরই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে চিরাচরিত হোঁচট আসে। ৮৭ থেকে ১০৫ রানে যেতে তাদের ৩ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন (ফখর ৪৫, সায়েম ৩৯, বাবর আজম ৭)।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৫৫ ও সালমান আগার ৬২ রানে পাকিস্তান ম্যাচে ফেরে। তবে তারাও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। একটা সময় ২৭ বলে মাত্র ২৩ রান দরকার থাকলেও, ম্যাচ শেষ ওভারে গড়ায় ৪ রানের সমীকরণে, হাতে ৩ উইকেট। অন্তিম মুহূর্তে আরও ১ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ দিকে হোসেন তালাহ (২২), মোহাম্মদ নওয়াজ (৯*) ও অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদির (৪*) রানে মুখ রক্ষা হয় পাকিস্তানের।
এই ম্যাচ দিয়েই পাকিস্তানের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির পথচলা শুরু হলো, যিনি জয়ের খাতা খুলেই নিজের অধিনায়কত্ব শুরু করলেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।