“নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, না হলে জনগণ মানবে না”: মির্জা ফখরুল

0
34

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, “নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হতে হবে এবং সে নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষ কিছুতেই তা মেনে নেবে না।”

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সংহতি বিপ্লব’ উপলক্ষে র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আধুনিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “সংস্কারের জন্য তিনি ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করলে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছি। প্রায় এক বছর ধরে সেই সংস্কারের রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর সব দল ঐকমত্যে পৌঁছায় এবং আমরা সেসব বিষয়ে স্বাক্ষর করেছি।”

তবে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হঠাৎ করে উপদেষ্টা কাউন্সিলের একজন সদস্য প্রেস কনফারেন্স করে জানালেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে মাত্র সাত দিন সময় দেওয়া হবে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে। তাহলে এতদিন যে ঐক্যবদ্ধ কমিশনে সব দল মিলে সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করল, সেটিরই বা মূল্য কী হলো?”

নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল জোট গড়ে চাপ সৃষ্টি করছে যেন নির্বাচনের আগেই গণভোট হয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, গণভোট নির্বাচনের দিনেই হতে হবে। দুটি ভোট করতে গেলে বিপুল অর্থ খরচ হবে এবং মূল নির্বাচনের গুরুত্ব হ্রাস পাবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা শুরু থেকেই তাদের পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু এখন তারা এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে যা নির্বাচনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”

সমাবেশে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো এবং ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।”

যুবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল আহ্বান জানান, “আপনারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন— তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামনে এগিয়ে যান এবং আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত করুন।”