রাজধানীতে বিএনপির বিশাল শোডাউন, নির্বাচনী আমেজ

0
24

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে গতকাল (শুক্রবার, ৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকায় নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে শোভাযাত্রা এবং সকালে জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উভয় কর্মসূচিতে দল ঘোষিত একক প্রার্থী অথবা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। এতে একধরনের নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়। একইসঙ্গে প্রার্থী ঘোষণার পর জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবসের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এদিন ধানের শীষের পক্ষে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনও করে দলটি।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। যেখানে মাদারীপুর-১ আসন স্থগিত এবং সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রার্থী ঘোষণার পর বিএনপির ঢাকা-৪ আসনের তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা-৫ এর নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা-৬ এর ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৮ এর মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-১১ এর এম এ কাইয়ুম, ঢাকা-১২ এর সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৪ এর সানজিদা ইসলাম তুলি, ঢাকা-১৫ শফিকুল ইসলাম (মিল্টন) এবং ঢাকা-১৬ আসনের আমিনুল হক ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী যারা ছিলেন তাদের বাসাবাড়ি অফিসেও যাচ্ছেন।

তবে রাজধানীর যেসব আসনে এখনও সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়নি সেখানেও কাজ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা। এর মধ্যে ঢাকা-৭ আসনে নাসিমা আক্তার কল্পনা, হামিদুর রহমান হামিদ, নেওয়াজ আলী ও ইসহাক সরকার, ঢাকা-১০ আসনে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ও শেখ রবিউল আলম রবি, ঢাকা-১৮ আসনে এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, কফিলউদ্দিন আহমেদ ও মোস্তফা জামান, ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। গতকাল শুক্রবারও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে ঘোষিত ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের শোডাউন করেন।

শোভাযাত্রা ও ব্যঙ্গাত্মক প্রদর্শন বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে শোভাযাত্রা করে বিএনপি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে শোভাযাত্রা রাজধানীর নয়াপল্টন, কাকরাইল, নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ মোড় থেকে বিকাল ৪টায় শুরু হয়। শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে গিয়ে সন্ধ্যায় শেষ হয়।

এদিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় অনুসারীদের নিয়ে জমায়েত হন ষোষিত একক ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতির ফলে পুরো নয়াপল্টন ও তার আশপাশে মূল সড়ক সমাবেশে পরিণত হয়। শোভাযাত্রা শুরু হলে খোলা ট্রাকে চড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

তবে এদিন ব্যতিক্রম চিত্রও দেখা গেল শোভাযাত্রায়। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের একটি ছোট পিকআপে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতীকী মডেল তৈরি করা হয়। সেখানে কয়েদির পোশাকে ৬ জনকে রাখা হয়, যাদের শরীরে লেখা-আমরা সবাই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর দালাল। আরেকজনের গায়ে লেখা ‘আমি সালমান, আমি ব্যাংক লুট করি’, ‘আমি আনিসুল, আমি আইনমন্ত্রী, আমি আইন ভঙ্গ করি’ ইত্যাদি ব্যঙ্গাত্মক বার্তা। আরেকটি ভ্যানে লোহার খাঁচায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি রাখা হয়, যা জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শেখ হাসিনার প্রতিকৃতির গলায় ফাঁসি রশি ঝোলানো। হাতজোড় করে চাচ্ছেন ক্ষমা।

মির্জা আব্বাসের বক্তব্য শোভাযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির ষড়যন্ত্র করার ইতিহাস নেই, এমনকি পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ারও ইতিহাস নেই। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি দল ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই এটা নিয়ে লম্বা লম্বা কথা বলছে, আমরা এটা মানতে চেয়েছি কিন্তু আপনারা একটা না একটা খুঁত ধরে নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এসব অপকর্ম বাদ দিয়ে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। এ সময় তিনি জাতিকে আর বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান।

এদিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতেও দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া বিএনপি ঘোষিত একক বা সম্ভাব্য প্রার্থীদের শোডাউন সবার নজর কাড়ে।