ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান: প্রেস সচিব

0
54

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শক্ত ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে। তিনি দলটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে জাতির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রেস কনসাল্টিং আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত করতে পারে’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, “শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিষয়ে এখন সবার একটি স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। তিনি এখনও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রেস সচিব বলেন, “তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ‘সন্ত্রাসী’ বলেছেন, যা রাজনীতির জন্য অস্তিত্বের হুমকি। একজন মানুষকে ‘সন্ত্রাসী’ বলা মানে তাকে হত্যাযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা। তিনি কি ১৮ কোটি মানুষকে শত্রু ঘোষণা করে আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান?”

সাংবাদিক এনায়েতুল্লাহ খানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে রাজাকার বানিয়েছিলেন, আর এখন তার মেয়ে ১৮ কোটি মানুষকে সন্ত্রাসী বলছেন— এটা কল্পনাতীত।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “সরকার ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শাসনব্যবস্থা ও জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, যা রাতারাতি মিটে যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনিশ্চয়তা দূর করতে ম্যান্ডেট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে অন্তর্বর্তী সরকার।”

প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ট্রেসের সিইও ফুয়াদ এম খালিদ হোসেন, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান। কূটনীতিক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।