ট্রাম্পের ভাষণ বিকৃতির অভিযোগে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন বিবিসি’র মহাপরিচালক ও হেড অব নিউজ

0
33

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভাষণ বিকৃতভাবে সম্প্রচার করার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (বিবিসি) মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং হেড অব নিউজ ডেবোরা টারনেস। সোমবার (১০ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, টিম ডেভি গত পাঁচ বছর ধরে সংস্থাটির শীর্ষ পদে ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পক্ষপাতিত্বের ধারাবাহিক অভিযোগ এবং বিভিন্ন বিতর্কের কারণে তার ওপর চাপ বাড়ছিল। বিবিসির ইতিহাসে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার একসঙ্গে পদত্যাগ করা নজিরবিহীন ঘটনা।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে জানায়, বিবিসির ‘প্যানোরামা’ নামের একটি প্রোগ্রামে ট্রাম্পের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল সহিংসতার আগে দেওয়া ভাষণের দুটি অংশ কেটে জোড়া লাগানো হয়। এর মাধ্যমে দেখানো হয় যে ট্রাম্প ক্যাপিটল হিলে সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন।

বাস্তবে, মূল বক্তব্যে দুটি অংশের মধ্যে প্রায় ৫০ মিনিটের ব্যবধান ছিল। কিন্তু এডিটিংয়ের মাধ্যমে তা একত্রে জোড়া লাগিয়ে সম্প্রচার করা হয়। এই ঘটনায় হোয়াইট হাউসও বিবিসিকে “একশ শতাংশ মিথ্যা সংবাদ” বলে সমালোচনা করেছিল।

রোববার সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে টিম ডেভি বলেন, “যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিবিসিও নিখুঁত নয়। আমাদের সর্বদা স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও দায়বদ্ধ থাকতে হবে। সাম্প্রতিক বিতর্কও আমার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সামগ্রিকভাবে বিবিসি ভালো কাজ করছে, কিন্তু কিছু ভুল হয়েছে— আর সর্বোচ্চ দায়িত্ব আমার।”

অন্যদিকে হেড অব নিউজ থেকে পদত্যাগ করা ডেবোরা টারনেস বলেন, প্যানোরামা ঘিরে বিতর্ক এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিবিসির ক্ষতি করছে। তার ভাষায়, “পাবলিক লাইফের নেতাদের জবাবদিহি থাকতে হয়, তাই আমি পদত্যাগ করছি।”

এই ঘটনায় রোববার ট্রাম্প বলেন, “বিবিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা পদত্যাগ করছেন বা বরখাস্ত হচ্ছেন কারণ তারা আমার নিখুঁত ভাষণ বিকৃত করেছেন। এরা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর অসৎ মানুষ।”

দ্য টেলিগ্রাফ প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ নোটে বিবিসির সম্পাদকীয় মানদণ্ড কমিটির সাবেক বহিরাগত উপদেষ্টা মাইকেল প্রেসকট অভিযোগ করেন যে, বিবিসি আরবিক বিভাগে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের কাভারেজে পক্ষপাতিত্বের “ব্যবস্থাগত সমস্যা” রয়েছে, যা নিয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি ম্যানেজমেন্টের নিষ্ক্রিয়তায় “হতাশা” প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে বিবিসির কাভারেজকেও “একপেশে” বলে সমালোচনা করেন।