প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে অন্তত ২ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

0
23

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান সরকারি অচলাবস্থার মধ্যেই প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে কমপক্ষে ২ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থের উৎস হবে ট্যারিফ বা শুল্ক থেকে আসা রাজস্ব। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, “প্রত্যেককে অন্তত ২ হাজার ডলারের লভ্যাংশ দেওয়া হবে (উচ্চ আয়ের মানুষদের বাদ দিয়ে)।”

প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে সরাসরি অর্থ দেওয়ার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকারের অচলাবস্থার কারণে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।

মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ এই সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) ইতোমধ্যেই টানা ৪০তম দিনে গড়িয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবিসি নিউজকে বলেন, এই ২ হাজার ডলারের লভ্যাংশ “নানা উপায়ে” দেওয়া হতে পারে। তিনি জানান, এর মধ্যে কর ছাড়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—যেমন বখশিশ ও ওভারটাইম আয়ের ওপর কর না নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

ট্রাম্প তার শুল্কনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে দাবি করেন যে, শুল্ক থেকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ রাজস্ব আয় হচ্ছে, যা দিয়ে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধ শুরু হবে।

তিনি বলেন, “যারা ট্যারিফের বিরোধিতা করে, তারা বোকা! এখন আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও মর্যাদাপূর্ণ দেশ। এখানে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় নেই বললেই চলে এবং শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে।”

নাগরিকদের সরাসরি অর্থ দেওয়ার এই উদ্যোগ কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। কিন্তু বাজেট নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার কারণে সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।