বাগেরহাটের ৪টি আসন পুনর্বহাল: নির্বাচন কমিশনের গেজেট অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

0
30

বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, আদালত বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনই বহাল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন, যেখানে জানতে চাওয়া হয়— কেন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং ইসির গেজেট কেন অবৈধ হবে না। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের দশ দিনের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত ৩০ জুলাই প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটের চারটি আসনকে কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো (বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জেলা ট্রাক মালিক সমিতিসহ অন্যান্য দল) আন্দোলন শুরু করে। তারা ‘সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি’ গঠন করে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এবং কমিশনের শুনানিতেও অংশ নেয়।

তবে, নির্বাচন কমিশন গণমানুষের দাবি উপেক্ষা করে গত ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেই গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাটকে নিম্নোক্ত তিনটি আসনে ভাগ করা হয়েছিল:

বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট।
বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা।
বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পূর্বের আসনগুলোর বিন্যাস ছিল:

বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট।
বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া।
বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা।
বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা।

হাইকোর্টের আজকের রায়ের ফলে বাগেরহাটে ঐতিহ্যবাহী চারটি সংসদীয় আসনই পুনর্বহাল হলো।